ছেলের হাতে মা ও নানি খুন

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় ইমরান হোসেন নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের হাতে তার মা মর্জিনা বেগম (৫০) ও নানি শামসুন্নাহার (৭০) খুন হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) রাত ২ টার দিকে পৌর সভার নওদা গ্রামে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের কুপিয়ে আহত করা হয়। রাতেই প্রতিবেশীরা তাদেরকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

মহেশপুর থানার ওসি রাশেদুল আলম জানান, পৌর এলাকার নওদা গ্রামের এনায়েত হোসেনের মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে ইমরান হোসেন হোসেন (২৮)। ১৯৯৯ সালে তার মায়ের সাথে বাবার ডিভোর্স হয়ে যায়। ডিভোর্সের দিন ৬ বছর বয়সে সে তার দাদাকে মারধর করে। গত ৪ মাস আগে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে থেকে তাকে চিকিৎসা করানো হয়। এছাড়া তাকে অনেক নামিদামি ডাক্তারও দেখানো হয়েছে। তার বাড়ি থেকে পিজি হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রেসক্রিশন ও ব্রেনের ওষুধ পাওয়া গেছে। সে ওষুধ খেতে চাইতো না। এ নিয়ে রাতে তাদের মধ্যে গোলযোগ হয়। এক পর্যায়ে সে তার মা ও নানিকে কুপিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। প্রতিবেশিরা উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের পরে ঘাতক ছেলে পালিয়ে গেছে।

ওসি আরো জানান, ওই বাড়িতে তারা তিনজন বসবাস করতেন। তার মা মহেশপুর গালর্স স্কুলের ল্যাব এ্যাসিস্টেন্ট হিসেবে চাকুরী করতেন।

তবে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ইমরান মাদকাসক্ত ছিল। টাকার জন্য সে প্রায়ই তার মাকে মারধর করতো। রাতেও তার মায়ের কাছে নেশার জন্য টাকা চেয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে ইমরান।